অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ১০ হাজার ডলার ইনকাম করার কৌশলসমূহ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিজনেস গুলোর মধ্যে একটি। একই সাথে ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম কার্যকর লাভজনক একটা ব্যবসা। এটি কিন্তু রাতারাত ধনী হওয়ার কোন স্কিম না, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট সিস্টেম বা কৌশল। তবে কোন ধরনের সঠিক গাইলেন ছাড়া কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে বড় অংকের টাকা ইনকাম করা যায় না, এটা অসম্ভব। তবে সঠিক পরিকল্পনা সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিয়মিত পরিশ্রমের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনেকগুলো কৌশল অবলম্বন করতে হয় সেগুলো নিম্ন উল্লেখ করা হলো ঃ

পোস্ট সূচিপত্রঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে  ইনকাম করার কৌশলসমূহ



অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ১০ হাজার ডলার ইনকাম


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ১০ হাজার ডলার ইনকাম করার প্রথম শর্ত হলো এ সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। এখানে এলোমেলোভাবে কাজ করা যাবে না,  এলোমেলোভাবে কাজ না করে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সামনের দিকে এগোতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি প্রতি সেলে ১০ ডলার কমিশন দেন তবে মাসে ১০,০০০ ডলার আয় করতে আপনার ১০০০ টি পণ্য বিক্রি করতে হবে। যা প্রতিদিন  ৩০-৩৪ টি সেল নির্দেশ করে।

অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিং-করে-মাসে-১০-হাজার-ডলার-ইনকাম-করার-কৌশলসমূহ

এবং এর জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ ভিজিটরের। অন্যদিকে আপনি যদি একটি হাই টিকেট পণ্যনির্বাচন করেন যার কমিশন আপনি ৫০০ ডলার দেন তবে আপনার মাসে প্রয়োজন হবে মাত্র ২০ টি পণ্য বিক্রি , যা সপ্তাহে মাত্র ৫ টি বিক্রি করার সমান। আবার সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক সফটওয়্যার প্রমোট করতে পারলে সেখানে প্রতি মাসে ৫০ ডলার রেফারিং কমিশন পাওয়া যায় এক্ষেত্রে 20 জন সক্রিয় কাস্টমার ধরে রাখতে পারলে আপনার প্রতি মাসে ১০,০০০ ডলার ইনকাম করার যে লক্ষ্যমাত্রা সেটি আপনি অর্জন করতে পারবেন। 

লাভজনক নিশ নির্বাচন


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ভিত্তি প্রস্তর হল সঠিক নিশ নির্বাচন করা। এমন নিশ নির্বাচন করা যাবে না যা কেবল আপনার পছন্দ। নিস এমন নির্বাচন করতে হবে যার বাজারে উচ্চ চাহিদা এবং পেমেন্ট দেওয়া সামর্থ্য রয়েছে। যেগুলোতে গ্রাহকদের জটিল এবং জরুরী সমস্যা রয়েছে এবং সমাধানের জন্য তারা সানন্দে অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত সেই সমস্ত নিশ নির্বাচন করতে হবে এবং সেই সমস্ত নিশেই সবচেয়ে বেশি কমিশন জেনারেট হয়। যেমন, Software as a Service (SaaS), পার্সোনাল ফাইন্যান্স, বিটুবি (B2B) ডিজিটাল সার্ভিসেস ইত্যাদি। তবে সফটওয়্যার নিশে  কাজের বড় সুবিধা হলো ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর প্রোডাকশন কস্ট শুধু একবারই হয়, এর ফলে মার্চেন্টরা তাদের অ্যাফিলিয়েটদের ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত ভালো মানের কমিশন দিয়ে থাকে।

নিজস্ব অথরিটি ব্র্যান্ড ও ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠা


সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলো যেগুলো আছে সেগুলো প্রায় সব সময় তাদের অ্যালগরিদম পরিবর্তন করে যার উপর আপনার কোন নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। ফলে কেবলমাত্র ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম বা লিঙ্কডইনের মত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এর উপর নির্ভর করে দীর্ঘ মেয়াদী ব্যবসা চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। এফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে  ১০০০০ ডলার ইনকাম করতে হলে নিজস্ব একটি ব্র্যান্ড এবং হাই-পারফর্মিং ওয়েবসাইট তৈরি করা অপরিহার্য । এইজন্য ওয়ার্ডপ্রেসের মতো বিশ্বস্ত প্লাটফর্মে একটি পরিষ্কার, দ্রুত লোডিং এবং মোবাইলবান্ধব ওয়েবসাইট নিজের পছন্দ অনুযায়ী সাজিয়ে নিন। এটি কেবল আপনার এফিলিয়েট লিংক রাখার জায়গা নাই বরং আপনার অনলাইন ব্যবসার হেডকোয়ার্টার হিসেবে কাজ করে। একটি প্রফেশনাল ডোমেইন ও হোস্টিং ব্যবহার করে কাস্টম ডিজাইন প্রাতিষ্ঠানিক লেআউট এবং প্রাইভেসি পলিসি যুক্ত করুন। এটি একদিকে যেমন সাধারণ ভিজিটরের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে এবং অন্যদিকে গুগল ও অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের চোখে আপনার ডোমেইনকে একটি অথরিটি ও বিশ্বাসযোগ্য  সাইট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে। 

হাই-কনভার্টিং কনটেন্ট মার্কেটিং ও কাস্টমার ট্রাস্ট


অ্যাফিলিয়েট  মার্কেটিং এ প্রধান পাওয়ার হাউস ই হচ্ছে কনটেন্ট।  তবে যে কোন রকম কনটেন্টহলে চলবে না কিন্তু। আপনার কনটেন্ট হতে হবে ভিজিটরদের সকল সমস্যার সমাধানকারী এবং সবকিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর লিখতে হবে। সরাসরি প্রোডাক্ট ব্যক্তির উদ্দেশ্যে আর্টিকেল না লিখে নিরপেক্ষ এবং সততা নির্ভর কন্টেন্ট লিখুন। প্রোডাক্টের ইতিবাচক দিকগুলোর পাশাপাশি এগুলোর সীমাবদ্ধতা গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন। আর্টিকেলের মধ্যে যেখানে প্রয়োজন সেখানে অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করুন। ভিজিটর যখন বুঝতে পারবে আপনি তাদেরকে জোর করে কিছু বিক্রি করতে চাইছেন না বরং তাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতেছেন তখন আপনার প্রতি তাদের বিশ্বাস অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। এবং এই বিশ্বাসই পরবর্তীতে আপনার অ্যাফিলিয়েট সেলকে  বহুগুণ বাড়িয়ে দিবে। 

ইমেইল মার্কেটিং ও অটোমেশন


আজকের এই ডিজিটাল জগতে একটি বহুল প্রচলিত শব্দ হলো "The Money is in the List" । আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন শত শত ভিজিটর এসে তথ্য দেখে চলে যাবে কিন্তু তাদের কোন নাম বা ইমেইল যদি না রাখেন তাহলে পরবর্তীতে তাদের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করবেন। এই সমস্যার একটাই সমাধান হলো ইমেইল লিস্ট বিল্ডিং। এখানে ইমেইল অটোমেশন একবার সেট আপ করে দিলে ইমেইল সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম নিজে থেকেই যারা সাবস্ক্রাইব করছে তাদের কাছে নির্দিষ্ট সময়ে ইমেইল পাঠাতে থাকবে। এরপর ConvertKit,  MailerLite-এর মতো টুল ব্যবহার করে ইমেইল অটোমেশন সিকোয়েন্স সেটআপ চালু করুন। প্রথমে ২-৩ দিন কাস্টমারকে মূল্যবান কিছু টিপস এবং ফ্রি গাইড পাঠাতে থাকুন পরের ৩-৭ দিন প্রোডাক্টটির সুবিধা , ব্যবহারের টিউটোরিয়াল ,বোনাস অফার এগুলোর  লিংক পাঠান একবার যদি একটু বড় এবং একটি একটিভ  ইমেইল লিস্ট তৈরি হয়ে যায় তারপর আর কোন বাড়তি খরচ ছাড়াই আপনি একই অডিয়েন্স এর কাছে বারবার নতুন নতুন  প্রোডাক্ট প্রমোট করতে পারবেন এবং দীর্ঘমেয়াদি অটোমেটেড ইনকাম গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। 

ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়া ডমিনেশন


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ ওয়েবসাইট বা ব্লকের পাশাপাশি ইউটিউব এবং সোশ্যাল মিডিয়াম ব্যবহার করতে হবে । এতে করে দ্রুত টার্গেটেড অডিয়েন্স তৈরি করা যায় এবং অর্গানিক ও পেইড ট্রাফিক এর মাধ্যমে সেলস বহুগুনে বাড়ানো সম্ভব হয়। ইউটিউবে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য অনেক কার্যকর স্ট্র্যাটেজি ফলো করতে হয়। একটি মাত্র ট্রাফিক সোর্সের উপর নির্ভর করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ , তাই নিজের ট্রাফিক সোর্সকে বহুমুখী করতে ব্লগিংয়ের পাশাপাশি ইউটিউব এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে যুক্ত করুন। ইউটিউব হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন। এখানে  কোন প্রোডাক্টের আনবক্সিং, টিউটোরিয়াল ভিডিও বানিয়ে স্ক্রিন রেকর্ড শেয়ার করুন। ভিডিও ডেসক্রিপশন বক্সে আপনার এফিলিয়েট লিঙ্ক এবং পেজের লিংক যুক্ত করুন। 

দীর্ঘমেয়াদি ডোমিনেশনের জন্য তিনটি মূল নিয়মঃ

  • একই মেসেজ ও ব্র্যান্ডিংঃ সকল ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া যেমন (ইউটিউব ,ইনস্টাগ্রাম, পিন্টারেস্টে) এগুলোতে একই নাম লোগো এবং কালার স্কিম ব্যবহার করুন যাতে করে অডিটেন্স আপনাকে  নাম বা লোগো  দেখে  সহজে চিনতে পারে। 
  • ধারাবাহিকতাঃ অ্যালগরিদম সাধারণত নিয়মিত পোস্ট করা প্রোফাইল কে বেশি প্রমোট করে ।তাই সপ্তাহে ইউটিউবে অন্তত ১-২ টি লং ভিডিও এবং সোশ্যাল অন্তত ১ টি শর্ট ভিডিও পোস্ট করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। 
  • ডেটা অ্যানালিটিক্স চেক করাঃ  শুধু লং ভিডিও বা শর্ট ভিডিও পোস্ট করলেই হবে না এখানে প্রতিদিন চেক করতে হবে যে কোন বয়সের মানুষ কোন দেশ থেকে কোন ভিডিও বেশি দেখতেছে সেই অনুযায়ী পরবর্তী কনটেন্ট গুলো উন্নত করতে হবে।

পেইড অ্যাডভার্টাইজিং এবং মিডিয়া বাইং স্কেল


কেবল মাত্র অর্গানিক ট্রাফিকের উপর ভরসা করে দ্রুত ১০,০০০ ডলার ইনকামের মাইলফলক ছোঁয়া অনেক কঠিন। ব্যবসা দ্রুত রাঙ্কিং এ নিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকর উপায় হলো পেইড ট্রাফিক (Paid Advertising)। Google Search Ads, Meta Ads(Facebook,Instagram),Youtube Ads ব্যবহার করে অনেক দ্রুত টার্গেটেড অডিয়েন্সকে ফানেলে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। শুরুর দিকে বিশাল বাজেট করা যাবে না। অল্প অল্প করে যেমন  প্রতিদিন  ১০-২০ ডলার দিয়ে বিভিন্ন অ্যাড কপি, ভিজ্যুয়াল ও অডিয়েন্স সেগমেন্ট টেস্ট করা। ডাটা অ্যানালিটিক্স থেকে যখন আপনি একটি উইনিং ক্যাম্পেইন খুঁজে পাবেন তখন সেখানে ১ ডলার বিজ্ঞাপনে খরচ করলে ২ বা ৩ ডলার পর্যন্ত অ্যাফিলিয়েট কমিশন আসছে তখন বিজ্ঞাপনের বাজেট কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে হবে। এখানে যদি আপনি লাভজনক ফানেল ও কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন তাহলে পেইড বিজ্ঞাপনের লিভারেজ ব্যবহারের মাধ্যমে সপ্তাহে প্রায় ২০০০ ডলার থেকে ১০,০০০ হাজার  ডলার আয় করা সম্ভব।

হাই-টিকিট এবং রিকারিং কমিশন প্রোডাক্টের সমন্বয়


আপনি মাসে কত ডলার আয় করবেন তা নির্ভর করে সম্পূর্ণ আপনি কি প্রোডাক্ট বিক্রি করতেছেন বা নির্বাচিত প্রোডাক্টের মূল্য এবং  কমিশনের ধরনের বা স্ট্রাকচার এর উপর। আপনি যদি প্রত্যেকটা প্রোডাক্ট বিক্রি করে ৫ বা ১০ ডলার কমিশন পান, সেক্ষেত্রে আপনার ১০,০০০  ডলার ইনকাম করতে হলে মাসে অন্তত ১০০০ থেকে ২০০০ টি সেল আনতে হবে-যা একজন একক মার্কেটার বা ছোট টিম এর জন্য প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার। এই বাধা অতিক্রম করার একমাত্র উপায় হল হাই-টিকিট এবং রিকারিং অফারের সঠিক মেলবন্ধন সৃষ্টি করা। আই টিকেট অফার গুলোর মধ্যে (প্রফেশনাল সফটওয়্যার, বিটুবি ডিজিটাল কোর্স ,মেম্বারশিপ প্রোগ্রাম) এগুলোর প্রতিটি সেলে ৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়। এর ফলে মাসে যদি ৫ থেকে ১০ টি সফল বিক্রি হয়  তাহলে আপনার টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হয়। আবার রি-কারিং প্রোডাক্টগুলোর (যেমন ইমেইল মার্কেটিং টুলস, সিআরএম, পেইজ বিল্ডার )এর ক্ষেত্রে কাস্টমার যতদিন পর্যন্ত সাবস্ক্রিপশন চালু রাখবে আপনি এখান থেকে প্রতি মাসে ২০% থেকে ২৫% নিয়মিত কমিশন পেতে থাকবেন ।

ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিটিক্স এবং উইকলি ডাটা অডিট


মাসে ১০০০০ ডলার আয় করে একটি সাধারণ ফ্রিল্যান্সিং কাজ নয় বরং এটি একটি পুরোপুরি ব্যবসা। এই ব্যবসাটি লাভজনক থাকতে হলে নিয়মিত ফিনান্সিয়াল বিশ্লেষণ এবং ডাটা অডিট করা জরুরি একটি বিষয়। আপনি সপ্তাহের প্রত্যেক রবিবার ও মাসের শেষে আপনার পুরো ক্যাম্পেইনের ডাটা টেবিল নিয়ে একবার হলেও বসুন। ট্রাক করুন- প্রতিটি ট্রাফিক সোর্সে আপনার সর্বনিম্ন খরচ কত ছিল ,কতগুলো ক্লিক এসেছে সেখান থেক্‌ গড় ইপিসি কত, এবং নেট প্রফিট মার্জিন কেমন ছিল। এখান থেকে খেয়াল করুন যে কোন ক্যাম্পেইন প্রোডাক্ট বা ট্রাফিক সোর্স আপনাকে ভালো প্রফিট এনে দিচ্ছে না  বা আপনার লোকসান হচ্ছে সেগুলোকে বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে অবিলম্বে বন্ধ করে দিন। অপরদিকে যে অফারগুলো থেকে হাই রিটার্নস অফ ইনভেস্টমেন্ট দিচ্ছে সেগুলোতে আপনার সময় আরো বাড়িয়ে দিন, বাজেট এবং ফোকাস অনেক গুণ বৃদ্ধি করে দিন। এইরকম ডাটা ভিত্তিক ছাঁটাই প্রক্রিয়া আপনার লস অনেকাংশে কমাবে এবং প্রফিট মার্জিনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

অ্যাডভান্সড ইউজার ট্র্যাকিং ও পিক্সেল ডাটা অ্যানালিটিক্স


কোন ট্র্যাকিং ছাড়া অন্ধের মত বাজেট বা সময় ব্যয় করলে কখনো মাসে ১০,০০০ ডলার ইনকাম করা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে প্রতিটা ক্লিক প্রতিটা কনভার্সেশন কোথায় এবং কিভাবে ঘটছে তার নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। এর জন্য Google Analytics 4 মেটা পিক্সেল,  এবং প্রফেশনাল ট্র্যাকিং সফটওয়্যার গুলো যেমন (Voluum, ClickMagick, RedTrack)  এগুলো সবগুলো ফানেলে যুক্ত করতে হবে। ট্রাকিং প্ল্যাটফর্ম গুলোর মাধ্যমে আপনি তখন বুঝতে পারবেন যে কোন ভিজিটর ল্যান্ডিং পেজের কোন জায়গায় এসে আটকে আছে,  কোন বাটন ঠিকমতো  কাজ করছে না এবং কোন ট্রাফিক সোর্স স থেকে আপনার সবচেয়ে বেশি কাস্টমার আসছে। আবার যে সকল ভিজিটর আপনার ল্যান্ডিং  পেজ দেখছে কিন্তু কোন প্রোডাক্ট কিনছে না , সেক্ষেত্রে ফেসবুক বা  গুগলের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্যে কম খরচে বিজ্ঞাপন দেখানো যায়।  

প্রসেস অটোমেশন, আউটসোর্সিং ও সিস্টেম রিভিশন


প্রতিটি কাজ একা করতে গেলে আপনার সময় এবং শক্তির কিছুটা সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসা একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে গিয়ে থমকে দাঁড়াবে। ব্যবসাকে দিনে ১০,০০০  ডলারের স্কেলে নিয়ে যেতে হলে আপনাকে একজন মার্কেটার থেকে একজন  'বিজনেস ওনার'  হতে হবে । এক্ষেত্রে আপনার মাসিক আয়  যখন ২০০০ থেকে ৩০০০ ডলারের পৌঁছাবে তখন আপনার কাজের  অংশগুলো এক এক করে আউটসোর্স করা শুরু করুন। কনটেন্ট রাইটিং ,ভিডিও এডিটি্‌ গ্রাফিক ডিজাইন, বেসিক এসইও কাজগুলোর জন্য প্রফেশনাল যে ফ্রিল্যান্সার গুলো আছে তাদেরকে নিয়োগ করুন। এতে করে আপনার হাতে অফুরন্ত সময় থাকবে এবং যা আপনার বিজনেস গ্রোথ ,ফানেল অপটিমাইজেশন এবং সার্বিক স্ট্রাটেজি তৈরিতে ব্যবহার করতে পারবেন। সাথে সাথে আপনার ব্যবসার প্রসেস এবং  সফটওয়্যার গুলোকে অটোমেটেড করুন এবং নিয়মিত আপনার অ্যানালিটিক্স  ডেটা রিভিশন করুন। এক্ষেত্রে আপনি বুঝতে পারবেন যে কোন চ্যানেল কতটুকু প্রফিটেবল এবং সে অনুযায়ী আপনি আপনার ব্যবসাকে ক্রমাগত টিউন এবং আপডেট করতে থাকুন। 

আমাদের শেষ কথা


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ১০ হাজার ডলার ইনকাম করা অবাস্তব কোন ফ্যান্টাসি নয়, আবার এটা কোন ম্যাজিক বা  বড়লোক হওয়ার শর্টকাট কোন কৌশলও  নয়। বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল বিজনেস সিস্টেম যা গড়ে তুলতে অনেক সময় ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন। আপনি শুধু  ৩ থেকে ৬ মাস হয়তো আপনার আশানুরূপ ফলাফল বা বড় কোন কমিশন কমিশন নাও পেতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে ধৈর্য হারা হলে চলবে না । কিন্তু একটি সঠিক ডিজিটাল অ্যাসেট র‍্যাঙ্ক করা একটি ওয়েবসাইট এবং শক্তিশালী ইমেইল ফানেল যদি আপনি তৈরি করতে পারেন তাহলে  থেকে সেখান থেকে আপনার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্যাসিভ   ইনকাম আনা সম্ভব।  এক্ষেত্রে অসদুপায় পরিহার করে গ্রাহককে বাস্তব ভ্যালু প্রদান করার দিকে মনোযোগ করতে হবে। ধৈর্য ও সঠিক গাইড লাইন গাইডলাইন মেনে নিয়মিত কাজ চালিয়ে গেলে মাসে ১০,০০০  ডলার ইনকাম করা আপনার জন্য স্বপ্ন না তখন তা বাস্তবে পরিণত হবে। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সৃজন ক্রিয়েটিভ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url